Thursday, February 09, 2012


৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২
৫) অজস্র
তুমি অজস্র,
আমি পরাজয় প্রকান্ড ধূসরে দেখেছি
নতুন করে কি দেখাবে?
মাঠের শেষে গাছের গুড়ি যুদ্ধ সাজে
যেই নেমেছে, পাই না কিছুই,
তোমার? থাকার কথা কেউ বলেনি।
খন্ডে খন্ডে মাংসে পিন্ডে
ভাগ করে সব মনের হদিস
ধানের বিছানায়,
ভাগ করে সব
আল দেওয়া খোপ, যায় ডিঙিয়ে
কথার মত, মুক্ত তরবারি।
অনুপম রায়

Friday, February 03, 2012


৩০ জানুয়ারি ২০১২
৪) বরফের পরে
এই সমস্ত বরফ
রাস্তা দেহ রেখেছে সমতল
তবু সাদা, আচ্ছন্ন,
মৃত শহরের থেকে গাড়ি চলে গেছে
মসৃণে, ঘসে, গুঁড়ো হয়ে আছে শীত,
সেই চাদরে ঢেকে রাখা
সূর্যাস্তের ক্ষত,
মাটি ফেটে দেখা যায় অল্প লাল
আহত শরীরে শহরে
জেগে থাকে কিছু কৌতূহল
আর পথচারী।
অনুপম রায়

Sunday, January 01, 2012


১ জানুয়ারি ২০১২
৩)ছাই
তুমি
ভাব আজ নেহাতই নিরস্ত্র,
তুলি
কাঁচা কিছু রঙ ছিল বাকি।
দেখ
চিন্তায় সব চুল ছাই, তাই
আমি
বিছানায় শুয়ে মৃত পাখি।


অনুপম রায়

Saturday, December 31, 2011


৩০ ডিসেম্বর ২০১১
২) কেন যে রাত? (২)
তবু পথ নেই।
একদিন তোমার শরীর জাগবে না,
আমি তোমার মুখের সামনে তারা ভাঙা
আকাশের নীচে, তোমায় আর একবার
নতুন করে দেখি। বারবার যেন
পেরেকে, কফিনে গাঁথা রাত্তিরগুলো
মনে করিয়ে উড়ে যায় প্যাঁচা তাই
খয়রী পালকে দেখি বারান্দা।
তুমি যতদূরে ঘুমোবে, রাত আমি
দূরবীনে মাপি।


অনুপম রায়

Thursday, December 01, 2011


প্রতিদ্বন্দী সিরিজ

১ ডিসেম্বর ২০১১
১) কেন যে রাত? (১)
সাহায্য তুমি বাইরের ঘরে
ভিতরে প্রবেশ তোমার স্পর্ধা আমায়
অবাকে কেমন ধারণাগুলো মরমর করে
গায়ে পড়া। আমার দেওয়াল নেই,
মেঝে নেই, আমি কিসের রান্না করব?
আমি যেন কোথাও দাঁড়িয়ে নেই
অথচ কোটি কোটি গাড়ি আওয়াজে
আমি অপ্রয়োজনীয়।
যদি প্রতিটা উত্তেজনা আমাকে ঠিক
ততটা নিরাশ করে আর প্রতি রাতে
আমি আবার নিস্পৃহ আর গতিহীন?
তাহলে আগলে না রেখে রাস্তাগুলো
খুব তাড়াতাড়ি রোদ্দুর ডাকতে পারব। 

অনুপম রায়

Sunday, October 16, 2011


১৬ অক্টোবার ২০১১

১৮) সূক্ষ্ম
তুমি সূক্ষ্ম সূচের তীক্ষ্ণ আমার কুচিকুচি ভাবনা সেলাই। সেই কাঁথা তুমি গায়ে দিলে আমি তোমার চোখে নামি। আমার প্রেমের দাগ তোমার সূর্য আঁকে প্রতি সংবাদপত্রে। পরের পাতায়। এক ফালি ঘর আমার তুমি চিনে ফেল। তুমি সূক্ষ্ম সুতো আমায় গেঁথে নিলে তোমার পচ্ছন্দের আঙুলে।

১৯) অসহ্য
বোকা হ্যাঙলা নির্লজ্জ সহবাসে বিশেষ্য। অপদার্থ মস্তিষ্ক বিচ্ছেদে সন্ধি। শুধু বিষে বিষে জমতে থাকে ইডিওসি। মানুষের অনেক নীচে। আমাদের কপাল ছিঁড়ে যায়। সেলোটেপ। ঘেরাটোপ এসব মশারি বিন্যাসে পেরোতে পারে না প্রাচীন। নিজের পায়ের নখ উপড়িয়ে অন্য রান্নাঘরে। ধাতু ভুল তাই কোন সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। এগুলো নিপাতনে সিদ্ধ।

২০) অ্যাক্সিডেন্ট এবং তারপর
কাঁদব বলে জন্মিয়ে কেঁদেছিলাম। তারপর নেহাতই আমার স্লো মোশানে কিছু বলতে যাওয়া। ভাঁজ করে রাখা ট্রাফিকে আমি যন্ত্রণায়। সিগ্নালে আমি কালার ব্লাইন্ড তাই সব কিছু গ্রে। এইতো আমরা ব্রেক ফেল করি। যে কটা দিন। ফাটা মাথা আর পাঁজর নিয়ে কোনমতে বেরিয়ে আসি। হাসপাতালের সামনেই পার্ক করে রাখাছিল আমার বাড়ি ফেরার ইচ্ছেগুলো। তারপর সাইকেলে করে সূর্যাস্তের পথে ব্যান্ডেজে আমরা মিলিয়ে যাই। দূর থেকে রুমালে লেগে থাকে লাল। এইতো আমি রঙ!

২১) ফুরিয়ে যেতে যেতে
ভালো লাগে। প্যারাশুট তুমি। ব্যান্ডেজ আমাকে মুক্ত করলে। ছুঁয়ে দিলে মেজর সেভেন্থ। সভ্যতার এই পাহাড়ের এক কোনায় মাঝে মাঝে তব দেখা পাই তোমার উচ্চারণে। নেমে আসো। পারাশুট তুমি। আমার গভীরে। তোমার কন্ঠে নয়ন তোমারে? এই দেখো আমি কেমন ফুরিয়ে যাচ্ছি স্পাইরালি তোমার অতল স্পর্শ করব বলে। সমুখে অনন্ত জীবন বিস্তার। হাত ধরো। 
অনুপম রায়

Sunday, October 09, 2011


৯ অক্টোবার ২০১১
১৪) আরো শীত
অনন্ত বরফের দেশে দু এক ফোঁটা আগুন জ্বলে। আগুনের শীত লাগে তাই থরথর করে কাঠের তাগিদে মুখ লুকোয়। আমাদের নাট্যমঞ্চে কিছু ভুলে যাওয়া সংলাপ সাসপেন্ডেড ইন এয়ার। সময় আটকে গেছে প্রেক্ষাগৃহে তুমুল মৌনতা। বরফের কুচি ধীরে ধীরে প্রবেশ করে নৈঃশব্দে। সবাই এভাবেই ফ্রোজেন শুধু প্রোট্যাগনিস্টের চোখ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ে মঞ্চের মেঝেতে। আরো শীত ছড়িয়ে যাক ...

১৫) ডিনার রেডি
তুমি যার সন্তান বয়ে বেড়াচ্ছ তার ছায়াতেও গাড়ির এক্সহস্ট। তার প্রেম এখন কিসের মূল্য ধরে দেয় তোমার জীবনে? ডিনার রেডি। তুমি আয়নাতে যে চুলে বাঁধো রাত্তির তার কোন সমাস ভাঙছে ঘরের দরজা। পারো না কেন অস্বীকার করতে? ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়? ডিনার রেডি। তোমার গুমঘরে গোপনে সব সত্যি কথা ইঁদুরে কাটে রাত্তির যেন বোবা তোমার ইচ্ছে গুলো কাটে না মোহ। আমার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন করতে পারো। ডিনার রেডি?
সূত্রপাত – বার্গম্যানের ফ্যানি অ্যান্ড অ্যালেক্সান্ডার দেখতে দেখতে।

১৬) তোমার প্রিয় গাধা
আমার দোষ নাই। ইট অল ওয়েন্ট রং। বহুদিন আগেই তুমি মারা গেছ আমার ভেতরে শুধু তোমার নিঃশ্বাস রোমকূপ বেয়ে উঠে আসে। এখনি নামবে। প্রিয় গাধা। আমার তলোয়ার বাসনের বিরক্তিতে ক্লান্ত। ল্যাম্পের উপর হাত রাখো। তাও হাসি তোমার মরা রোদে।

১৭) কাঙালপনা
তুমি তো সন্ধ্যার মতো আমার ভিতরে নামো। এক ফালি হাসি নিয়ে খোলা জানলার কাছাকাছি। শিশুর বিশ্বের আশেপাশে তোমার হাঁটাচলা। বিনা কবিতায় তুমি কখনই আসো না। কতবার তুমি আন্ডারলাইন করে দিয়েছে। আমি তাও কেন হেরে যেতে এত ভালোবাসি? কোনদিন কি দেখা হওয়ার কথা ছিল? প্রশ্নপত্র চুরি যায়।
অনুপম রায়

Saturday, October 08, 2011


৮ অক্টোবার ২০১১
১২) বয়স
আমার বয়স পেরিয়ে গেছে তোমার জড়ো হওয়া চামড়া, সাদা চুলের নেপথ্যে। এ দেহে এখনো তুমি স্নান করতে পারো, এ মাথায় এখনো বিমান বন্দর। তোমার কথার তালিকায় ফুটনোট দেখে নি অথবা আমার বাক্যে ব্লেডগুলো শানানো। পাক খেতে খেতে পালক তখনো মাটি ছুঁতে আবার পরের জন্ম, এ জন্মে তাই তোমার সন্তানেরা আমার হল না। 

১৩) নক্ষত্র এবং কক্ষপথ
ঈশ্বরবাদী, ঈশ্বর বাদ দিয়ে ভাবুন, যে নক্ষত্রে আমরা বিশ্বাস করি তার অরবিট থেকে কখন আমরা ছিটকে যাব। আমাদের গ্রহ-উপগ্রহের ভিড়, বৃত্তাকার-উপবৃত্তাকার পথে গিজগিজ করছি আমরা। একটি ভুল উচ্চারণে আমাদের কক্ষপথ পালটে যায়। এক আলোকবর্ষে একবার কাছে আসা। এই নক্ষত্র আমাদের গতিবিধি একটা ডিটারমিনিস্টিক র‍্যান্ডমনেস।

অনুপম রায়